সারা দেশ

অনুমতি না মেলায় আজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা থাকলেও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় কোনো জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। পর্যাপ্ত কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় গতকাল শনিবার পর্যন্ত কোনো জাহাজকে চলাচলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিনেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পারছেন না পর্যটকেরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যাপ্ত কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় এখনো কোনো জাহাজকে সেন্টমার্টিনে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ট্যুরিজম বোর্ডের কিছু কার্যক্রমও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি বলে জেনেছেন তিনি। আগামী বুধবার জেলা প্রশাসক সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক (প্রশাসন ও সমন্বয়) নিজাম উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্যুরিজম বোর্ডের দায়িত্ব ট্রাভেল পাস দেওয়া। এ কার্যক্রমের প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই পাড়ি দিতে হয় বঙ্গোপসাগর দিয়ে।

পর্যটন মৌসুম নিয়ে সিদ্ধান্তে একাধিক পরিবর্তন

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়েছিল। এতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও জাহাজ মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন।

অনুমোদন পেতে একাধিক দপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বলেন, জাহাজ চলাচল শুরু করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এসব অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা, সেটিও এখনো প্রস্তুত হয়নি। এ কারণে রোববার থেকে জাহাজ চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। তবে বৃহস্পতি বা শুক্রবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল বলেন, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে রুট পারমিট নিতে হয়। এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ মালিক চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেননি। আবেদন পাওয়ার পর জাহাজ পরিদর্শন করে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, রোববার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজের ফিটনেস ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। জাহাজ মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। কেবল সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে পারবেন।

সব মিলিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক পরিবহনে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

ক্যাটাগরি