কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে আধুনিক সি-ট্রাক চালু, যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে আধুনিক সি-ট্রাক চালু হওয়ায় দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। তবে ফেরিঘাট ইস্যুতে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

রবিবার দুপুরে পেকুয়ার মগনামা ঘাটে সি-ট্রাক চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, কুতুবদিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ উপজেলা। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে যাতায়াত করে আসছেন। নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই নৌরুটে সি–ট্রাক চালু করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, পাশাপাশি পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।

তিনি আরও বলেন, ফেরিঘাট নিয়ে রাজনীতি করলে উন্নয়ন হয় না। এই রাজনীতির কারণেই দেশের দ্বীপাঞ্চলগুলো বারবার পিছিয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগরের কারণে কুতুবদিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সি-ট্রাক চালু হওয়ায় তারা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে ফেরি সার্ভিস চালুর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, দুই শত যাত্রী ধারণক্ষমতার সি-ট্রাকটি প্রতিদিন মগনামা ঘাট থেকে সকাল ৯টা, দুপুর ২টা ও সন্ধ্যা ৭টায় কুতুবদিয়ার উদ্দেশে ছাড়বে। কুতুবদিয়া থেকে মগনামা ঘাটে ছাড়বে সকাল সাড়ে ৭টা, বেলা ১২টা ও বিকেল ৫টায়। জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ, ঢাকা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


Posted

in

by

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *