মাকে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা শিক্ষক ছেলে গ্রেফতার
যশোরে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় ছেলে মামুনুর রশিদ (৪৩) নামে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজেদুর্গাপুর এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আনোয়ারা খাতুনের বয়স ৬৫ বছর। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেনের স্ত্রী।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মামুনুর রশিদ বাড়িতে এসে তার মায়ের কাছে গোসলের জন্য গামছা চান। এ সময় তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আনোয়ারা খাতুন ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পেছনে ফিরলে পাশে থাকা তরকারি কাটার বঁটি দিয়ে তার পিঠে কোপ দেন মামুনুর রশিদ বলে অভিযোগ।
কোপের আঘাতে আনোয়ারা খাতুন মাটিতে পড়ে গেলে মামুনুর রশিদ তার মুখমণ্ডল, মাথা, পিঠ ও হাতে একাধিকবার কোপ দেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান মামুনুর রশিদ। এদিকে খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পিবিআই কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামুনুর রশিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তার অবস্থান শনাক্ত হলে শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামুনুর রশিদ একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পেছনে মা আনোয়ারা খাতুনের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি ধারণা করতেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মা ও ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুর রশিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ, ঘটনার আগে-পরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহত আনোয়ারা খাতুনের আরেক ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। পরে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডের ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামুনুর রশিদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
একজন মায়ের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।