মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে অশান্ত নেপাল, ভারত সীমান্ত বন্ধ
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্মীয় অবমাননাকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রভাবে বীরগঞ্জ শহরে স্থানীয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালীন কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি ভারত-নেপাল সীমান্তের রক্সৌল সংলগ্ন এলাকায় ভারতের সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ধনুসা জেলার কমলা পৌরসভা থেকে। অভিযোগ উঠেছে, হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামের দুই যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যা অন্য ধর্মের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য হিসেবে ভাইরাল হয়। এরপরই ধনুসা ও পারসা জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় জনতা দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। উল্টো সাকুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হিন্দু সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে তাদের দেব-দেবীদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে।
বীরগঞ্জে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে এবং একটি থানায় ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। পারসা জেলা প্রশাসন কারফিউ কার্যকর রেখেছে, বাজার ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং দেশটিতে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা নিরাপত্তার কারণে দেশে ফিরে আসতে শুরু করেছেন।
ভারতীয় সীমান্তে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ করেছে। মৈত্রী সেতু ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকা—সহদেওয়া, মহদেওয়া ও পান্তোকার—সহ সব জায়গায় টহল বাড়ানো হয়েছে, যেন নেপালের অশান্তি সীমান্তের ওপারে ছড়িয়ে না পড়ে।