উদ্ধার বিপন্ন ‘হিমালয়ান গৃধিনী’, দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তিতে আটকে পড়ার ধারণা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলোরাম গ্রাম থেকে একটি বিপন্ন প্রজাতির পরিযায়ী শকুন ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে শকুনটি উড়তে না পেরে আটকে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’ (তীর)-এর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা শকুনটিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
তীর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা বলোরাম গ্রামের স্বনির্ভর ক্লাব সংলগ্ন একটি পুকুরপাড়ে শকুনটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সেটিকে শাজাহান মিয়ার বাড়ির আঙিনায় এনে প্রাথমিকভাবে পানি ও খাবার দেওয়া হয়। বিষয়টি জানানো হলে তীর-এর একটি প্রতিনিধি দল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগে হস্তান্তর করে।
গাইবান্ধা বন বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শকুনটিকে উন্নত চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য রংপুর বন বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রংপুর থেকে এটি দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানের ‘শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে’ স্থানান্তর করা হবে বলে জানান তীর গাইবান্ধার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন।
আইইউসিএনের প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ জানান, হিমালয়ের প্রচণ্ড শীত ও হিমঝড় সহ্য করতে না পেরে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এসব শকুন দক্ষিণের সমতল অঞ্চলের দিকে চলে আসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় তারা দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ান গৃধিনী মূলত উত্তর গোলার্ধের পার্বত্য অঞ্চল থেকে খাদ্য ও অনুকূল আবহাওয়ার খোঁজে শীতকালে বাংলাদেশে আসে। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যুর কারণে শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
তীর-এর নেতারা জানান, বাংলাদেশে একসময় সাত প্রজাতির শকুন থাকলেও বর্তমানে রাজশকুন পুরোপুরি বিপন্ন এবং দেশে বাংলা শকুনের সংখ্যা মাত্র ২৬০টির মতো। এই প্রেক্ষাপটে পরিযায়ী হিমালয়ান গৃধিনীর নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তীর-এর উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, শকুনকে প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলা হয়। তারা মৃত পশুর দেহ খেয়ে পরিবেশকে রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে। শকুন হারালে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শকুন উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন, সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মেজবাহুল হক, সদস্য বাপ্পি মহন্ত ও সোহেল রানা।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, শকুন সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে বিপন্ন এই প্রজাতিকে রক্ষা করা সম্ভব।