সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়া

উখিয়া-টেকনাফে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীর

উখিয়া-টেকনাফ আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা করে বলেছেন, অতীতে উখিয়া-টেকনাফে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা সবাই দুর্নীতি করেছে, কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত জনপদের এই আসনে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট থাকবে না এবং ন্যায়বিচার ও মানুষের উন্নয়নে দলটি কাজ করবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, নির্বাচিত হলে টেকনাফ স্থলবন্দর ও শাহপরীরদ্বীপ করিডোর চালু, টেকনাফ পৌরসভা আধুনিকায়ন, স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ, নাফ নদী ব্যবস্থাপনা, টেকনাফ কলেজে অনার্স কোর্স চালু, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সরকারীকরণ, মহিলা কলেজ স্থাপন, দমদমিয়া–সেন্টমার্টিন ঘাট চালু এবং খাস জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি টেকনাফে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন, ট্যুরিজম পার্ক চালু, মিথ্যা মামলা থেকে হয়রানি বন্ধ, মাদক ও অপহরণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তার দাবি, এক বছরের মধ্যেই উখিয়া-টেকনাফের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তিনি জনপ্রতিনিধি নন, জনগণের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। জন্ম থেকেই এই এলাকায় বেড়ে ওঠা এবং ২২ বছর ধরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে দীর্ঘদিন ধরে এ জনপদে শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও উখিয়া-টেকনাফের মানুষের অধিকার আদায় ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাজনীতিকে তিনি ক্ষমতা নয়, বরং জনগণের সেবা করার মাধ্যম হিসেবে দেখেন বলেও জানান।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে উখিয়া-টেকনাফ সিন্ডিকেটমুক্ত হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে অপশাসকদের বিদায় জানাতে পারলে নতুন নেতৃত্বে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এই সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা শেষে পুরো টেকনাফ শহর মিছিল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সরওয়ার কামাল সিকদার ও টেকনাফ পৌর জামায়াতের সভাপতি রবিউল আলমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

ক্যাটাগরি