সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

মব কালচার দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ, আইন হাতে তুললে ছাড় নয়: আইজিপি

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান ‘মব কালচার’ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, গণপিটুনি বা ‘মব কালচার’-এর মতো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের ভেতরে থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করতে পুলিশ পিছুপা হবে না।

তিনি বলেন, “মব কালচার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা দরকার। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

আইজিপি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় না। বরং তারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যে কারও অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু সেটি অবশ্যই আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সহিংসতা কখনোই সমাধান হতে পারে না।”

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না এবং উন্নয়ন ব্যাহত হবে। একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। বিশেষ করে নগর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনার কথাও জানান আইজিপি। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা ও কেনাকাটার সময় ছিনতাই, চুরি বা প্রতারণা ঠেকাতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শপিং মল, বাজার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরা কিংবা বাজার-সদাই করতে গিয়ে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ পরিবেশে সবাই যাতে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।”

ক্যাটাগরি