শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি সৌদি-ইসরাইলের জোরাজুরিতে হামলা চালায় ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য উৎসাহিত করেছিল সৌদি আরব ও ইসরায়েল। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই মিত্র দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে রাজি করায় এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একত্রে হামলার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশ সৌদি আরব ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখছিল। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছিলেন, যদি হামলা না করা হয়, ইরান ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও এই অবস্থানকে সমর্থন জানান।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানকে তার দেশের জন্য অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন হামলার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর ওপর বিমান হামলার নির্দেশ দেন। হামলার প্রথম ঘণ্টাতেই খামেনি ও ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী এক দশকে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি করবে না। তবুও ট্রাম্প প্রশাসন এই নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপ নেয়, যা তার পূর্ববর্তী সীমিত সামরিক অভিযানের তুলনায় ভিন্ন এবং বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখযোগ্য যে, হামলার সময় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। তবে সৌদি যুবরাজের চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সমন্বিত কৌশলই হামলার বাস্তবায়নে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখে।

ক্যাটাগরি