রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাদের ওপর নজর রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী রয়েছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা অতীতে কী করেছে, তা বিবেচনা করে তাদের ‘চোখে চোখে’ রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতে তারা কী করছে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলের নেতাকর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।

‘সংস্কার’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে অনুপস্থিত থেকে বর্তমানে সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিএনপি ২০২২ সালেই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল এবং এর আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানী দেওয়া হয়। অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেক এবং একজন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনা এবং ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। সেচ সুবিধা ও পানি সংকট মোকাবিলায় দেশব্যাপী আড়াইশ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ভাষার দক্ষতায়ও পারদর্শী করে গড়ে তোলা হবে। মেধা ও প্রতিভার বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারের সময় বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।

দেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষির উন্নয়ন, শিক্ষা ও শিল্পায়নের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম ও জালাল উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

ক্যাটাগরি