নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে আবারও আফ্রিকার সেরা সেনেগাল
নাটক, উত্তেজনা, বিতর্ক আর পেনাল্টি মিস—রোমাঞ্চের সব উপাদানই ছিল আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স (আফকন) ফাইনালে। ঘরের মাঠে হাজারো দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়ে স্বাগতিক মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল সেনেগালের মাথায়।
রোববার রাতে রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১–০ ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয় সাদিও মানের দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে পাপা গুইয়ের একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে সেনেগাল। এর আগে ২০২১ সালে প্রথমবার আফকন জিতেছিল তারা। অন্যদিকে ১৯৭৬ সালের পর শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল মরক্কোর।
ম্যাচের মূল নাটকীয়তা তৈরি হয় নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটগুলোতে। কর্নার থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ভিএআর চেক করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। প্রতিবাদস্বরূপ সেনেগাল কোচ পাপ ঝাও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর তারা মাঠে ফিরলেও স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়েন দিয়াস। তার নেওয়া দুর্বল ‘পানেনকা’ শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি।
পেনাল্টি মিসের মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৫তম মিনিটে ইদ্রিসা গেয়ির বাড়ানো থ্রু বল ধরে দুর্দান্ত কোণাকুনি শটে সেনেগালকে এগিয়ে দেন পাপা গুইয়ে। এরপর সমতায় ফেরার জন্য মরক্কো আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও ভাগ্য সহায় হয়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সেনেগাল, তবে পাপা গুইয়ের হেড রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় ‘আটলাস লায়নস’, কিন্তু ফিনিশিংয়ের ঘাটতিতে জালের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠেই চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাকিমি–দিয়াসদের।