শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতি

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার মতো পর্যাপ্ত মজুত আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা, আর রমজানে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

শুক্রবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় রোজা সামনে থাকায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে সরকারের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট। তাই আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত চার-পাঁচ মাস ধরে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা ও শুল্কনীতির প্রভাব আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের গতিকে মন্থর করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই টালমাটাল সময়ে বিকল্প বাজার অনুসন্ধান এবং নতুন পণ্যে রপ্তানি সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। একই পণ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি খাতের প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে আগামী পাঁচ বছরকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতিসহায়তার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ দলীয় নেতারা।

ক্যাটাগরি