নিজেই জানালেন স্পেনের হয়ে কেন খেলেননি মেসি
জীবনের অল্প বয়সেই লিওনেল মেসিকে তার পরিবারসহ দেশ ছাড়তে হয়েছিল। সেই সময় আর্জেন্টিনার ছোট শহর থেকে স্পেনের বার্সেলোনা পৌঁছানো ছিল তার জীবনের এক বড় পরিবর্তনের অধ্যায়। স্পেনে পাড়ি জমানোর সঙ্গে সঙ্গে তার অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা দ্রুতই প্রকাশ পায়। বার্সেলোনা ক্লাবের কোচ এবং স্কাউটরা তার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং ক্লাবের জার্সিতে একের পর এক সাফল্য তিনি অর্জন করতে থাকেন।
বার্সেলোনার সঙ্গে তার উত্থানশীল ক্যারিয়ারের মাঝে মেসির সামনে খুলে আসে স্পেনের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ। সে সময় স্পেন তাকে বয়সভিত্তিক দলের জন্য প্রস্তাব দেয়, কারণ তিনি তখন বার্সেলোনার হয়ে খেলছিলেন। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সময়ও এই প্রস্তাবটির প্রভাবে মেসি কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন, যা তাকে ওই আসরে খেলতে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
কিন্তু সব প্রলোভনকে পাশ কাটিয়ে মেসির মন এবং হৃদয় সবসময়ই আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চেয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদিও আমি খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং প্রায় সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতেই খেলেছি, তবুও আমি মনে-প্রাণে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চাই। স্পেনের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু আমি সবসময় আর্জেন্টিনার প্রতি আস্থা রেখেছিলাম। আমি নিজের দেশের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলাম।”
এরপর পরবর্তী বছরেই মেসি আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে মাঠে নামেন এবং এক বছর পর ফিফা যুব বিশ্বকাপে জয়ী হন। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকসে তিনি সোনার পদক জিতে নেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে একটি বড় ট্রফি জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘসময় ধরে চলছিল। অবশেষে ২০২১ সালে তিনি কোপা আমেরিকা জিতেন, ২০২২ সালে দেশের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করেন এবং ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার জন্য অবিস্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেন।
মেসি রেকর্ড আটবার বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জয় করেছেন। ২০২২ সালে ফাইনালিস্সিমা জয়ও তার কৃতিত্বের অংশ। তার ক্যারিয়ার এখনও অব্যাহত, আগামী ইউরোতে স্পেনের সঙ্গে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামার প্রস্তুতি চলমান।
মেসির এই গল্প শুধু তার ফুটবল প্রতিভারই নয়, বরং জন্মভূমি ও জাতীয় আবেগের প্রতি তার নিবেদিততা ও গভীর ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে স্পেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া, দেখায় যে মেসির অন্তরে আর্জেন্টিনার প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং জন্মভূমির প্রতি এক অটুট দায়বদ্ধতা ছিল।
এভাবেই মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার স্থান তৈরি করেছেন-অদম্য প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং জন্মভূমির প্রতি অবিচল ভালোবাসার এক অনন্য সংমিশ্রণে।
তথ্য সূত্র – মার্কা।