কক্সবাজার জেলা

প্রধান শিক্ষক সংকটে কক্সবাজারের ৬২% প্রাথমিক বিদ্যালয়

কক্সবাজারে প্রধান শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। জেলার ৬৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০৩টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। ফলে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি, সরকারি নানা উদ্যোগ ও কারিকুলাম বাস্তবায়নে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি জেলায় ৩৫৫টি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গুলশান আরা জানান, নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পদোন্নতির জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং গ্রেডেশন তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০১৩ সালে জেলার ২৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিসিএস নন-ক্যাডার থেকেও কিছুসংখ্যক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে বিভিন্ন মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক তথ্যেও প্রধান শিক্ষক সংকটের চিত্র স্পষ্ট। কক্সবাজার সদরে ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৫ জন, শূন্য ২৯টি। রামুতে ৪২টি পদের মধ্যে ২৬ জন কর্মরত। ঈদগাঁওয়ে ৩৯টির মধ্যে কর্মরত মাত্র ৭ জন, শূন্য ৩২টি। উখিয়ায় ৭৮টির মধ্যে কর্মরত ৪৩ জন এবং শূন্য ৩৫টি। টেকনাফে ৬৬টির মধ্যে কর্মরত ২২ জন, শূন্য ৪৪টি। চকরিয়ায় ১০১টির মধ্যে কর্মরত ৫৭ জন, শূন্য ৪৪টি। পেকুয়ায় ৫৬টির মধ্যে কর্মরত ২৩ জন, শূন্য ৩৩টি। মহেশখালীতে ৭০টির মধ্যে কর্মরত ২৬ জন, শূন্য ৪৪টি। কুতুবদিয়ায় ৫৯টির মধ্যে কর্মরত ১৯ জন, শূন্য ৪০টি। নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ৪৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪টিতে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন; শূন্য ৪০টি পদ।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অনেককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজে তাদের বড় একটি সময় ব্যয় হওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, সভা ও প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গিয়ে পাঠদানে আরও বিঘ্ন ঘটছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আলাদা কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয় না বলে জানান তারা।

কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শূন্য পদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গুলশান আরা জানান, কক্সবাজারে ৩৫৫টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৩৪ জন সহকারী শিক্ষককে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। এতে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে এবং পাঠদানে গতি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ক্যাটাগরি