কক্সবাজার জেলা

ইনানীতে এখনো জ্বলছে আগুন, ৩৬ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৫০ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের বিস্তার ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ করছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে, আগুনের প্রকৃতি ও গ্যাসের উপাদান শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। তবে পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোটখাল-সংলগ্ন আগুনের উৎসস্থল ঘিরে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

২০০ মিটারজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুনের বিস্তার ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ ঠেকাতে ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া হচ্ছে।

আগুনের উৎসস্থলের আশপাশে ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও এর সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

৩৬ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ

এদিকে, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উখিয়ার মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বন্ধ রাখা বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩৬ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টা থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ওই এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবারের বাসিন্দারা। বুধবার রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও প্রয়োজনীয় সেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা।

গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাস নির্গমন

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইনানীর ছোটখাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই নির্গত গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর থেকে গ্যাসের উৎস, প্রকৃতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বুধবার বিকেলে বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেন।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের কোনো ফাটলের মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে।

তবে পরীক্ষাগারে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে, আগুনের উৎস ও গ্যাসের প্রকৃতি শনাক্ত করতে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ততক্ষণ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।

ক্যাটাগরি