কিস্তির টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূর হাঁস নিয়ে গেল এনজিও কর্মী
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে কিস্তির টাকা দিতে না পারায় টিএমএসএস এনজিওর এক মাঠকর্মী গৃহস্থের পালিত চিনাহাঁস নিয়ে গেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, ফুল্লশ্রী গ্রামের হাফিজা খানম টিএমএসএস থেকে চলতি বছরের শুরুতে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। মঙ্গলবার কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে মাঠকর্মী ফিরোজ খানসহ আরও দুজন তার বাড়িতে যান। হাফিজা এদিন কিস্তি পরিশোধ করতে অসমর্থতার কথা জানালে মাঠকর্মী টাকা ছাড়া না যাওয়ার দৃঢ় অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে উঠানে থাকা হাঁস দেখে ফিরোজ খান টাকার পরিবর্তে হাঁস দাবি করেন। হাফিজা প্রতিবাদ করে পাশের বাড়িতে চলে গেলে মাঠকর্মী ফিরোজ ও তার সহযোগী ধাওয়া করে একটি বড় চিনাহাঁস ধরে নিয়ে যান।
ঋণগ্রহীতা হাফিজা খানম জানান, তিনি সময় চেয়ে পরের সপ্তাহে কিস্তি পরিশোধের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তবুও তার অনুপস্থিতিতে তার মেয়ের শখের চিনাহাঁসটি নিয়ে যাওয়া হয়। হাঁসটির দাম দেড় হাজার টাকারও বেশি বলে দাবি করেন তিনি এবং সেটি ফেরত চান।
উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল দাস গুপ্ত বলেন, কিস্তির টাকার বিনিময়ে সদস্যের বাড়ি থেকে কোনো মালামাল নেওয়ার বৈধতা নেই এবং এ ঘটনাকে তিনি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, টিএমএসএস আগৈলঝাড়া উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের আওতাভুক্ত নয়।
অভিযুক্ত মাঠকর্মী ফিরোজ খান হাঁস নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিস্তির বদলে ৮০০ টাকা দাম ধরে হাঁসটি আনা হয়েছে। অন্যদিকে টিএমএসএসের ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম দাবি করেন, হাফিজা নিজেই হাঁস বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তাই দাম দিয়ে হাঁস নেওয়ায় অপরাধ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, টিএমএসএস তাদের আওতাভুক্ত কোনো এনজিও নয় এবং কিস্তির পরিবর্তে হাঁস নেওয়া আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ।