চট্টগ্রামের সংগীত আইডল তৃষা দাশের কণ্ঠে নতুন গান, শ্রোতামহলে উচ্ছ্বাস
চট্টগ্রামের সংগীত আইডল তৃষিতা দাশ তৃষার সুরের জাদুতে আবারও মাতোয়ারা দর্শক-শ্রোতা। কক্সবাজারের তরুণ গীতিকার ও সাংবাদিক এম আমান উল্লাহর লেখা আধুনিক গান “পুরনো পথে কেন এভাবে আমায় ডাকো”-তে কণ্ঠ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। গানটি প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। এই গানটির মাধ্যমে তৃষা আবারও প্রমাণ করলেন-বিভিন্ন ঘরানার গান সহজ ও সাবলীল ভঙ্গিতে গাওয়ায় তার রয়েছে বিশেষ দক্ষতা।
গানটিতে সুর দিয়েছেন গুণী সংগীত পরিচালক ও সুরকার আজম চৌধুরী। কথার গভীরতা ও আধুনিক সুরের মেলবন্ধনে গানটি শ্রোতাদের মনে আলাদা জায়গা করে নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংগীতবোদ্ধারা।
সাম্প্রতিক সময়ে সংগীতাঙ্গনের সফল মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তৃষা দাশ। ২০১৩ সালে এস.এ টেলিভিশনে প্রচারিত সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো “বাংলাদেশি আইডল”–এ সাত লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি টপ–১০ এ স্থান করে নেন। এর আগেও ২০১২ সালে চ্যানেল নাইনে প্রচারিত সংগীত প্রতিযোগিতায় সারা দেশের লাখো প্রতিযোগীর মধ্য থেকে টপ–১৫ এ জায়গা করে নিয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার সন্তান তৃষা দাশ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাশ ও চন্দনা দাশ দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড়। শিল্পীর সংগীতে হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। পরবর্তীতে ধ্রুপদ ও শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন একাডেমির মিসেস রত্না চৌধুরী, আর্য সংগীতের নির্মলেন্দু চৌধুরী, সুরবস্তের অশোক চৌধুরী এবং মুরালোক সংগীত বিদ্যাপীঠের শিমূল দাশের কাছে।
ব্যক্তিজীবনে ২০১১ সালে দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তৃষা। তার স্বামী সৈকত নন্দীও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি একজন শিল্পী ও কী–বোর্ডিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং বাংলাদেশ বেতারে যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে নিয়োজিত। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান কৃষ্ণবন্ধু নন্দী।
২০০৫ সাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মঞ্চ ও আয়োজনে নিয়মিতভাবে গান করে আসছেন তৃষা দাশ। রক ঘরানার গানেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে জানান। নতুন গান প্রসঙ্গে শিল্পী তৃষা বলেন, “ভালো কথা ও সুর পেলে গান গাইতে সবসময়ই ভালো লাগে। এই গানটি আমার জন্য বিশেষ।”
নতুন এই গানটির মাধ্যমে তৃষা দাশ আবারও শ্রোতাদের মনে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।