বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা

- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দুই মার্কিন কূটনীতিক | ছবি: প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়—ঠিক ওই দিনই নির্বাচন হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থেকে একচুলও সরে আসবে না। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও অপতথ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ বন্ধ করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং এসব ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারছে।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম বড় শত্রু হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এটি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়া চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সেই প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সে ধরনের উদ্যোগ সম্ভব নয়, কারণ অভিযুক্ত পক্ষ এখনো তাদের অপরাধ স্বীকার করেনি বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপের মনোভাব থাকে—যা বর্তমানে অনুপস্থিত।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাটাগরি