শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক শিক্ষিকার বাসা থেকে শিক্ষার্থী ও তার মায়ের পচাগলা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২১ দিন আগে মা–মেয়েকে হত্যা করে ফ্ল্যাটের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার নাবালিকা বোন নুসরাত জাহানকে (১৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকা একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন প্রতিবেশী রোকেয়া রহমান। কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জামিনদার রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা চলছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

পুলিশ জানায়, ২৫ ডিসেম্বর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকার বাসায় গেলে নুসরাতের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে।

হত্যার পর সিসিটিভি ক্যামেরা ফাঁকি দিতে শিক্ষিকার পরিকল্পনায় ফাতেমার পোশাক নুসরাত নিজে পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, যাতে পরে ফুটেজ দেখে মনে হয় ফাতেমা নিজেই বাসা ছেড়ে গেছে।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রোকেয়াকে ফোন করে বলা হয়, তার মেয়ে অসুস্থ। দ্রুত এসে নিতে বলা হয়। রোকেয়া ফ্ল্যাটে ঢুকতেই নুসরাত পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে ধরে এবং শিক্ষিকা মীম তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধ করে রোকেয়াকে হত্যা করে।

পুলিশ জানায়, ফাতেমার লাশ বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর এবং রোকেয়ার লাশ একটি বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপরও স্বাভাবিকভাবে ওই বাসায় বসবাস করতে থাকে দুই বোন ও শিক্ষিকার পরিবার।

এমনকি ৬ জানুয়ারি শিক্ষিকার তিন বছর বয়সী ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে পুরো পরিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নানাবাড়িতে যায় এবং ১০ জানুয়ারি আবার ফিরে আসে।

শিক্ষিকার স্বামী রংয়ের ডিলারের ব্যবসা করেন। বাসায় দুর্গন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে স্ত্রী বারবার বলতেন, বাইরে কুকুর মরে থাকায় গন্ধ আসছে।

বৃহস্পতিবার দুর্গন্ধ অসহনীয় হলে স্বামী ঘরের বিভিন্ন কক্ষ খুঁজতে গিয়ে একটি কক্ষের খাটের নিচে লাশ দেখতে পান। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে দুইটি লাশ উদ্ধার করে।

নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ অভিযোগ করেন, ২৫ ডিসেম্বর থেকে স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে ২৭ ডিসেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, “আমি বারবার বলেছি ওই বাসাটা তল্লাশি করতে। কিন্তু পুলিশ যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ কিংবা কললিস্টও চেক করেনি। যদি করত, তাহলে অন্তত লাশগুলো দ্রুত পাওয়া যেত। আমরা ২১ দিন পর পচাগলা লাশ পেয়েছি।”

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

ওসি সাইফুল আলম জানান, গ্রেফতার দুই বোনই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকা নুসরাতকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

ক্যাটাগরি