শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

ছেলের মুক্তি মেলেনি প্যারোলে, বাবার লাশ গেল কারাগারে

রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী মিলন মিয়া (৪০)। তার বাবা ফুল মিয়া (৬৮) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে মারা যান। বাবার মৃত্যুতে শেষবারের মতো দেখা ও জানাজায় অংশ নিতে আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। তবে বাবার মরদেহ কারাগারে এনে ছেলেকে শেষ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়।

আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার মরদেহ আনা হয়। কারা ফটকে বাবার লাশ দেখে মিলন মিয়া ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। স্বজনদের উপস্থিতিতে হৃদয়বিদারক এই দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মিলন মিয়া ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফুল মিয়ার বড় ছেলে। তিনি পেশায় ইট-বালু ব্যবসায়ী। স্থানীয় সূত্র জানায়, মিলন আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও দলটির সমর্থক ছিলেন। তার নামে কোনো নির্দিষ্ট মামলা না থাকলেও ২০২৪ সালে তাকে আটক করে ভৈরব থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর হলেও কারামুক্ত না করে ২৬ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তাকে আবার কারাগারেই আটক রাখা হয়।

মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, মঙ্গলবার সকালে মিলনের বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের কাছে পাঠানো হয়। পরে জানানো হয়, প্যারোল মঞ্জুর করা সম্ভব নয়, তবে বাবার মরদেহ কারাগারে এনে শেষ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ভাতিজা আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিল না, শুধু সমর্থন করত। কোনো মামলাতেও তার নাম ছিল না। অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরে মামলায় নাম ঢোকানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমার বড় ভাই ফুল মিয়া ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শেষ সময়ে বাবার জানাজায় ছেলেকে নিতে না পারা খুবই কষ্টের।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ঘটনায় শুনেছি প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু মিলনের ক্ষেত্রে তা হলো না। বাবার লাশ নিয়ে কারাগারে আসতে হয়েছে—এটা কোনোদিন কল্পনাও করিনি।’

এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই।

উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। সেক্ষেত্রেও কারাগার ফটকেই শেষবারের মতো স্বজনদের মুখ দেখার ঘটনা ঘটে।

ক্যাটাগরি