শেষ মুহূর্তে ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন মান্না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকছেন।
রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে মাহমুদুর রহমান মান্না লেখেন, নির্বাচন এতটাই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি আর্থিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল আসন। এখানে আড়াই শতাধিক ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য আলাদা খরচ, প্রতিদিনের প্রচারণা ব্যয়, কর্মীদের খরচ—সব মিলিয়ে তার পক্ষে তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বড় পরিসরে প্রচারণা চালানোর মতো সামর্থ্যও তার ছিল না। শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তিনি আর কুলিয়ে উঠতে পারেননি।
ওই পোস্টে তিনি আরও জানান, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি ঢাকা-১৮ এবং বগুড়া-২—এই দুই আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঢাকা-১৮ আসনটি আয়তনে বড় এবং এর অন্তর্ভুক্ত সাড়ে সাতটি থানা ও প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার। এত বড় আসনে নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় তার পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
বর্তমানে তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছেন। বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সৃ্এ: বিবিসি বাংলা