ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। দীর্ঘ দুই দশক পর সরকার গঠনের পথে দলটি। ফলে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত শপথ অনুষ্ঠিত হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দেশবাসী নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিপরিষদ দেখতে পাবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে। দলের প্রতি অতীতের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে নেতাদের। বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং মন্ত্রিসভা আকারে বড় না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে এবং সব রাষ্ট্র কাঠামোয় কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নই তাঁদের লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, দলীয় ইশতেহার ও রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
দলীয় প্রধান তারেক রহমান এবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর বড় সন্তান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।
নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেতে পারেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—এমন আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া আলোচনায় আছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জহিরউদ্দিন স্বপন, রেজা কিবরিয়া, এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরীফুল আলম, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শামা ওবায়েদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া জোটসঙ্গীদের মধ্যেও সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যাশা ও জল্পনা এখন তুঙ্গে। শপথ গ্রহণের পরই স্পষ্ট হবে কারা থাকছেন দেশের পরবর্তী প্রশাসনিক নেতৃত্বে।

Leave a Reply