চাঁদাবাজদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে এই অভিযান শুরু হবে। চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী, দাগি আসামি এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদেরও তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ দায়ী নয়; কিছু দুষ্ট ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনীর ওপর বর্তেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে, যেন কোনো ব্যক্তিনির্ভর সিস্টেম গড়ে না ওঠে। ‘রুল অব ল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং পুলিশ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে নয়, বরং আইন অনুসারেই সব কার্যক্রম চলবে,’—বলেন তিনি।
জনবান্ধব পুলিশ নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই তিনি চেইন অব কমান্ড ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা যাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে সরাসরি যোগাযোগ না করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনে মন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ঢাকার সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা সীমাহীনভাবে বেড়ে গেছে, যা প্রধান সড়কে চলাচল করে যানজট সৃষ্টি করছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত সড়কে নন-মোটরচালিত যান চলাচল সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য সড়কেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক সিগন্যাল মানার ব্যাপারে নাগরিকদের সচেতনতার ওপরও জোর দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা।
সূত্র: জাগো নিউজ