চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়!
মেক্সিকান ক্লাব তিগ্রেস ছেড়ে হঠাৎ আর্জেন্টিনায় ফিরে আসার পর নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। অভিযোগ উঠেছে, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পরই তিনি মেক্সিকো ছাড়তে বাধ্য হন। এ ঘটনায় রিভার প্লেটে তার বহুল আলোচিত দলবদলও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
রিভার প্লেটে যোগ দিতে কোরেয়া ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনায় পৌঁছে মেডিকেল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরেরও কথা ছিল। তবে ঠিক সেই সময় আর্জেন্টিনার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম, খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, প্রাণনাশের হুমকির কারণেই তিনি মেক্সিকো ত্যাগ করেছেন।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে, কারণ তিগ্রেসের অনুশীলনের শেষ দিন কোরেয়া স্বাভাবিকভাবেই সতীর্থ ও কোচিং স্টাফকে বিদায় জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি কোনো ধরনের হুমকির কথা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানাননি। বরং তিগ্রেসই তাকে রিভার প্লেটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রিভার প্লেট এই ট্রান্সফারের জন্য তিগ্রেসকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু প্রাণনাশের হুমকির খবর প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, রিভার প্লেট এখন এমন প্রমাণ সংগ্রহ করছে, যাতে ফিফা ও ক্রীড়া সালিশি আদালতে (সিএএস) আবেদন করে কোরেয়াকে ‘মুক্ত খেলোয়াড়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়। এতে তিগ্রেসকে ট্রান্সফার ফি পরিশোধ না করেই দলবদল সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে, মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম মেদিওতিয়েম্পো-কে তিগ্রেসের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের মতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগটি মূলত রিভার প্লেটের চাপ সৃষ্টির কৌশল। ক্লাবটি জানিয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত কোরেয়ার সঙ্গে বৈধ চুক্তি রয়েছে এবং পূর্ণ ট্রান্সফার ফি আদায়ে তারা অনড়। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়েও যেতে প্রস্তুত তারা।
বর্তমানে অ্যাঞ্জেল কোরেয়া আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছেন। তবে তার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তিগ্রেস, রিভার প্লেট এবং খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা না হলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ফিফা বা ক্রীড়া সালিশি আদালতে গড়াতে পারে।