কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা: তুহিন, ফাহিম ও আনাস নামের ৩ জন আটক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সহকারী পুলিশ সুপার জানান, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকও ফাহিমের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুহিনের বাড়ি কুমিল্লার সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। আনাস ও ফাহিমের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতীমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।