মিয়ানমারে ক্লিনিক ও স্কুলে সামরিক বাহিনীর হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫
মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে সোমবার (২ নভেম্বর) স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। রাখাইনের কিয়াউকতাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ শহরের আবাসিক এলাকা এবং একটি মাতৃসদন হামলার শিকার হয়। এসব হামলায় রাখাইনে ১২ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। আহত হন আরও ৩২ জন।
এর আগের দিন শনিবার কারেন্নি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। ছুটির দিনে ওই স্কুলে শিশুদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক একটি কর্মসূচি চলছিল। হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়।
এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী।
রাখাইন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বসবাস। প্রধানত মুসলিম এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।
বছরের পর বছর ধরে সহিংসতার কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।