তোফাজ্জল হত্যা: আসামি আরও ৭ ঢাবি শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলায় আরও সাতজনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর মাধ্যমে এ মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) শাহবাগের সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয় সূত্রে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মূল অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে ছয় আসামির জবানবন্দিতে নাম আসা আটজনকে অব্যাহতি দেওয়ায় মামলার বাদী নারাজি আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তর করে।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নতুন করে অভিযুক্ত সাতজনই ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তারা হলেন শেখ রমজান আলী, রাশেদ কামাল অনিক, মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।
এর আগে দাখিল করা অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়, যাদের বেশিরভাগই ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে তোফাজ্জল হোসেনকে আটক করা হয়। অভিযুক্তরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। নিহতের মামা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্রিকেট স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।
পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় মামলা করেন। পরে নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার হলের প্রভোস্টসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করলে আদালত দুটি মামলার একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।