মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

আলাদা হতে নারাজ তিন বোন, তাই একই পুরুষকে বিয়ে!

ছোটবেলা থেকেই তিন বোনের বন্ধন ছিল অবিচ্ছেদ্য। একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, চলাফেরা ও কাজ—জীবনের প্রতিটি অধ্যায় তারা ভাগাভাগি করে কাটিয়েছেন। বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তা মেনে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত একই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন তিন বোন। ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হাসানপুরের ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিন বোন সরোজ (২০), সাবিত্রী (১৯) ও সন্তোষ (১৮),গত ১৭ জুলাই চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে তাদের ক্যামেরাম্যান বিকাশকে বিয়ে করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত এই তিন বোনের বিয়ের ভিডিও বুধবার ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাশ তিন বোনের প্রত্যেকের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন। তবে অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

বড় বোন সরোজ জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা তিনজন সবকিছু একসঙ্গে করেছেন। পরিবার থেকে আলাদা আলাদাভাবে বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানার পর তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই একই ব্যক্তিকে বিয়ে করার পথ বেছে নেন। তাদের দাবি, চারজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিন বোনের ভাষ্য, গত ছয় মাস ধরে বিকাশ তাদের ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে প্রায়ই তিনি তাদের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করতেন। সেই কাজের সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

বিকাশও জানিয়েছেন, তিন বোনের পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি তিনি আগে থেকেই জানতেন। তাদের অনুরোধ এবং সবার সম্মতির ভিত্তিতেই তিনি বিয়েতে রাজি হন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর তিন বোন একটি ভিডিও বার্তায় জানান, নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় এই বিয়ে করেছেন।

তবে আইনগতভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী একজন হিন্দু পুরুষ একই সময়ে একাধিক নারীকে বৈধভাবে বিয়ে করতে পারেন না। ফলে এই বিয়ের আইনগত বৈধতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে।

এদিকে চামুণ্ডা মাতা মন্দিরের ব্যবস্থাপক ড. শিবচরণ দাস জানিয়েছেন, মন্দিরে সংস্কারকাজ চলছিল এবং ওই সময় সেখানে কোনো পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন না।

হাসানপুর সার্কেল অফিসার পঙ্কজ ত্যাগী বলেন, বিয়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ চারজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় অনুষ্ঠানটি করেছেন বলে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এই বিয়ের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের আয়োজন প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মতি এবং আইনি বৈধতা,এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তিন বোনের এই ব্যতিক্রমী বিয়ে এখন ভারতে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ক্যাটাগরি