বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সদর উপজেলা

এক নারীর তিন নাম : পরিচয় নিয়ে কৌতূহল!

কক্সবাজার শহরে এক নারীর ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একই ব্যক্তির নামে তিনটি আলাদা পরিচয় কাবিননামায় এক নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রে আরেক নাম, আবার কর্মস্থলে সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম এমন অভিযোগ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ওই নারী কক্সবাজার পৌর শহরের ইউছুলের ঘোনা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে “জোসনা” নামে পরিচিত। তবে সরকারি ও ব্যক্তিগত নথিপত্রে তার নামের ভিন্নতা এখন আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্বামী জানে আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিবাহের সময় কাবিননামায় জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী স্ত্রীর নাম ছিল “জোসনা আক্তার”। কিন্তু পরে উক্ত কাবিননামা তুলে দেখি আমার স্ত্রীর নাম লিখা হয়েছে নিলুফা ইসলাম জোসনা। এ নিয়ে স্বামীর প্রশ্ন “একই ব্যক্তির সরকারি ও বৈবাহিক নথিতে এত পার্থক্য কীভাবে হলো?”

এদিকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে তার কর্মস্থল নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি কক্সবাজারের বেসরকারি ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতাল-এ দীর্ঘদিন ইসিজি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি পরিচিত ছিলেন “রুবি আক্তার উর্মি” নামে।
সূত্র জানায়, চাকরির সময় ব্যবহৃত নাম ও অন্যান্য নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে। পরে ভুয়া বা অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার এবং পরিচয় গোপনের অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ইউছুলের ঘোনা এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবাই তাকে “জোসনা” নামেই চেনে। তবে কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি তার প্রকৃত নাম কোনটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে জোসনা নামেই চিনি। এখন শুনছি কাবিনে এক নাম, এনআইডিতে আরেক নাম, হাসপাতালে অন্য নাম। বিষয়টা সত্যিই রহস্যজনক।”
আরেকজন বলেন, “একজন মানুষ কেন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করবে এটাই এখন সবার প্রশ্ন।”

এলাকাবাসীর একটি অংশ দাবি করছে, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। তবে পরিবারের অতীত পরিচয় নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, পুরনো রোহিঙ্গা পরিচয় আড়াল করে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা আছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তি যদি সরকারি নথি, চাকরির আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ বা বৈবাহিক নথিতে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেন, তাহলে তা প্রতারণা, জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অভিযোগে তদন্তের বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ ও চাকরির নথির মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, কাবিননামা এবং চাকরির নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে একই ব্যক্তির নামে জোসনা আক্তার, নিলুফা ইসলাম জোসনা ও রুবি আক্তার উর্মি এই তিন পরিচয়ের রহস্য এখন কক্সবাজার শহরের আলোচনার কেন্দ্রে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

ক্যাটাগরি