বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কান্নার রোল, পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে হঠাৎ কর্মভিসা বাতিলের ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি বিমানবন্দর থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমনই একজন নোয়াখালীর আবুধাবিপ্রবাসী তাহের হোসেন। প্রায় আট বছর ধরে আবুধাবির একটি লন্ড্রি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিনি। দুই বছর পর এক মাসের ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর কর্মস্থলে ফিরছিলেন। বাংলাদেশে ইমিগ্রেশনের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আবুধাবি পৌঁছে জানতে পারেন, তার কর্মভিসা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়।

তাহের হোসেন বলেন, দুই বছর পর পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরছিলাম। আবুধাবিতে নেমে জানতে পারি আমার ভিসা বাতিল। এখন কীভাবে সংসার চলবে, ঋণ শোধ করব—কিছুই বুঝতে পারছি না।

প্রবাসীদের অভিযোগ, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও অনেকের ভিসা বাতিল হচ্ছে। এতে ছুটিতে দেশে থাকা হাজারো বাংলাদেশি নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন। তবে এ সুযোগে একমুখী বিমান টিকিটের দামও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া টিকিটের দাম এখন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের নয়; পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। কেন এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবেও বিষয়টি উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। দেশে অবস্থানরত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এটি কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এদিকে দূতাবাস প্রবাসীদের সতর্ক করে বলেছে, ভিসা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতে। ভিসাসংক্রান্ত যে কোনো জটিলতায় সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৃত্র:যুগান্তর

ক্যাটাগরি