বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবহাওয়া

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর সীমান্ত এলাকা থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে জেলা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। যশোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে নোয়াখালীতে তার সহযোগী রায়হানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যান। তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের অভিযান, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এর আগে গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে ডেভিড ইমনের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)কে বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুইজন নিজেদের ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে স্বীকার করেছেন। তারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের ভাষ্য, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থায়নের উৎস, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ক্যাটাগরি