শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধ করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না; তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, টাস্কফোর্স মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে মাদক পাচার ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু স্থলপথ নয়, নদী ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করেও মাদক দেশে প্রবেশ করছে। এসব রুটে মাদক পাচার ঠেকাতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানের ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কি না, তা শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।

টেকনাফ ও উখিয়ার জেলে এবং নৌযান নিবন্ধনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে সমুদ্রে কারা মাছ ধরতে যাচ্ছে এবং কোন নৌযান কোথায় চলাচল করছে, তার একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। এতে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নৌযান শনাক্ত করা সহজ হবে।

টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ রোধে দুটি নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে।

সভায় সীমান্তে বিজিবি, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড এবং দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছে তিনি জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভায় যোগ দেন।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজারের সার্বিক মাদক পরিস্থিতি, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি, মাদক পাচারের রুট, চোরাকারবারিদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংস্থার করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাটাগরি