রংপুরে শিক্ষক-দম্পতি ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় আটক ২
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে স্থানীয় কয়েকজন যুবক এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
রোববার দুপুরে রংপুর পুলিশ হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল মাবুদ মিয়া এ তথ্য জানান।
আটকরা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়। আটক দুজনের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুঁতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তুঁতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসে আটকরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—এমন আলামতও পাওয়া গেছে।
পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ মিয়া বলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা ওই বাড়িতে ঢুকে চারজনকে হত্যা করে থাকতে পারে।
এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, বাড়িটি কয়েক দিন ধরে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দোতলা বাড়িটির ছাদ, সিঁড়ি ও শোবার ঘর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদ থেকে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ি থেকে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
লাশ উদ্ধারের সময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে আসবাবপত্র, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙচুর করা অবস্থায় পাওয়া যায়। দুই থেকে তিন দিন আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর তছনছের ধরন দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্তে কাজ করছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।