শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি নষ্ট করে সড়ক নির্মাণ, কাজ বন্ধের দাবি বিআইপির

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ তুলে চলমান কাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। একই সঙ্গে প্রকল্পটির পরিবেশগত, জলবায়ুগত, দুর্যোগ ঝুঁকি ও পরিকল্পনাগত প্রভাব স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় বিআইপি।

সংগঠনটি জানায়, কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়িত নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্পের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত উপকূলীয় সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এ নির্মাণকাজে সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

বিআইপির মতে, কক্সবাজারের বালিয়াড়ি, উপকূলীয় উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বালুর স্তর শুধু সৈকতের নান্দনিক সৌন্দর্যের অংশ নয়; এগুলো উপকূলকে ঢেউ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষায় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এসব বালিয়াড়ি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

সংগঠনটির আশঙ্কা, সড়ক নির্মাণের জন্য বালিয়াড়ি ভরাট, সমতল বা অপসারণ করা হলে তা শুধু পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিই করবে না, দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকেও দুর্বল করে দিতে পারে।

বিআইপি বলছে, ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষা এবং পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই যদি প্রকল্পটি নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বাস্তবায়নের সময় উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের প্রশ্ন—প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে যদি বালিয়াড়িই ধ্বংস করতে হয়, তাহলে এর পরিকল্পনাগত যৌক্তিকতা কতটা?

সংগঠনটি আরও বলেছে, সংবেদনশীল বালিয়াড়ি অঞ্চল এড়িয়ে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের সুযোগ থাকলে সেই সম্ভাবনা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিকল্প নকশা ও স্থান নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে তারা।

সংবেদনশীল উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত আইন, বিধিবিধান ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিআইপি।

সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা না করে উপকূলীয় এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব বহুগুণে বাড়তে পারে।

বিআইপি চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিত করে প্রকল্পটির পরিবেশগত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে বিকল্প স্থান ও নকশা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পরিকল্পনাবিদ, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য অংশীজনকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনায় বসারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিআইপির ভাষ্য, স্বাধীন ও সমন্বিত পুনর্মূল্যায়নে যদি প্রকল্পটি পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা ও উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রকল্পটি বাতিল করে টেকসই, পরিবেশসম্মত ও দুর্যোগ-সহনশীল বিকল্প অবকাঠামো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ক্যাটাগরি