রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে শুধু জাতিসংঘের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আইরিন খান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার ও সহযোগিতার ঘাটতিই রোহিঙ্গা সংকটের অন্যতম বড় সমস্যা। একদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
আইরিন খান বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা এসব মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজন থাকলেও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাচ্ছে। শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে উল্লেখ করে আইরিন খান বলেন, এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের জন্য একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় আনতে হবে। আলোচনায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাশাপাশি সংকটে প্রভাবিত আঞ্চলিক দেশ এবং মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা দেশগুলোকেও যুক্ত করা প্রয়োজন।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘ একা বড় বৈশ্বিক সংকটের সমাধান করতে পারে না। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেই নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।