শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডিগ্রির পাশাপাশি সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি: আসিফ নজরুল

ছবি: কক্সবাজার সংবাদ

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলাও জরুরি এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

রোববার পূর্বাচল নতুন শহরে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন ড. আসিফ নজরুল।

বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ব্যক্তি পর্যায়ে নানা অর্জন থাকলেও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। একসময় পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রসরমান অবস্থায় থাকলেও গত দেড় দশকে সেগুলোর ভিত দুর্বল করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে দেশ গঠনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পেরেছে, তারাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যক্তি ও পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, প্রতিষ্ঠানকে নয় ফলে অর্জনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

বক্তব্যের শুরুতে ড. আসিফ নজরুল প্রখ্যাত কবি ওসমান হাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের গ্র্যাজুয়েটরা মেধাবী ও সাহসী। জ্ঞানার্জন এখন শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তির বিকাশের ফলে শিক্ষার পরিসর যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত হয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমীনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ।

সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের মোট ৬৭২ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তিনজন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল, চারজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর সিলভার মেডেল এবং ২০ জনকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

সমাবর্তন উপলক্ষে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। এর আগে ছয়টি সমাবর্তনে ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। এবারের সমাবর্তনে গাউন ও হ্যাট পরিহিত গ্র্যাজুয়েটদের আনন্দ ও স্মৃতিচারণায় ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

ক্যাটাগরি