শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল প্রায় ১২ কোটি টাকা, অ্যাকাউন্টে জমা ছাড়াল ১০৪ কোটি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিনভর গণনা শেষে এ বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ। নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সগুলো থেকে বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার অলংকারও পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এ সময় পাওয়া যায় মোট ৩৫ বস্তা টাকা। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদসংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন শিক্ষার্থী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২৫০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট দানবাক্স খোলার সময় ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সর্বশেষ চার মাস ১৮ দিনে দানের পরিমাণ আরও বেড়েছে। বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে মানুষের দানের মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি টাকায়।

তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে এতিম ও অনাথদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র, সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশন থাকবে। ৫ দশমিক ৫ একর আয়তনের বর্তমান মসজিদ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জমি কেনা হবে।

ইতোমধ্যে কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠান নকশা জমা দিয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। শিগগিরই কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে গণনা শেষে অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা নিয়মিত নগদ অর্থের পাশাপাশি হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ নানা সামগ্রী দান করে থাকেন। দানের এই ধারাবাহিকতা মসজিদটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ দানপ্রাপ্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

ক্যাটাগরি