দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব এলপিজি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার রাতে জারি করা এক নোটিশে সমিতি জানায়, ৮ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে এলপিজি গ্যাসের বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে। পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা, খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা, এলপিজি বহনকারী গাড়িতে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান স্থগিত এবং বিইআরসির একতরফাভাবে দাম নির্ধারণ বন্ধ করা।
সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান বলেন, পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দাম ঘোষণা করেছে, যা পরিবেশক ও ভোক্তাদের জন্য সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশে ২৭টি কোম্পানি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করলেও বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ফলে অনেক পরিবেশক দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছেন।
এদিকে জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংগঠনটি বলছে, তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন