ভোটের সময় কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেন কেউ কোনোভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৮তম জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার ঠেকানো। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গাদের যেন কোনো রাজনৈতিক বা নাশকতামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ না করে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি আরোপের সিদ্ধান্তের কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে পুরো ক্যাম্প এলাকা নিরাপত্তার আওতায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা ক্যাম্প ইনচার্জ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কমান্ডিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন না করার নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে নতুন রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে যেন অনুপ্রবেশ না বাড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। পুরো নির্বাচনকালজুড়েই ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ভোটের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত কার্যত সিল থাকবে এবং ক্যাম্প ইনচার্জদের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহও গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ব্যবহার করে অস্ত্র আনা বা নাশকতার চেষ্টা হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশে নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজারে। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট