পারমিট ছাড়াই মদের সাম্রাজ্য : রেনেসাঁ বারে অবাধ পার্সেল বাণিজ্য
‘ম্যানেজ’ অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর
আইন আছে, বিধিমালা আছে কিন্তু কক্সবাজারে তা যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভয়ংকর বাস্তবতা। পর্যটন শহরের একাধিক বারে পারমিট ছাড়াই চলছে মদের রমরমা বাণিজ্য। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রেনেসাঁ বার। নিয়ম ভেঙে প্রকাশ্যে মদ বিক্রি, এমনকি পারমিটবিহীন মদের পার্সেল দেওয়ার অভিযোগ এখানে নতুন নয় বরং নিত্যদিনের ঘটনা।
সন্ধ্যা নামলেই আইন উধাও : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পারমিট ছাড়া মদ বিক্রি, পরিবেশন কিংবা পার্সেল দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সন্ধ্যা গড়াতেই কক্সবাজার শহরের এসব বারে আইনের উপস্থিতি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেতার কাছ থেকে কোনো বৈধ পারমিট যাচাই করা হয় না।
পার্সেল বাণিজ্য: নীরব অপরাধের খোলা খেলা সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মদের পার্সেল বাণিজ্য। হোটেল, কটেজ, গেস্টহাউস এমনকি ব্যক্তিগত বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মদের বোতল। স্থানীয় সূত্র বলছে, ভেতরে বসে পান করার চেয়েও এই পার্সেলই এখন বারের প্রধান আয়ের উৎস।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানে পারমিটের কথা কেউ শোনে না। টাকা দিলেই সব ঠিক এই শহরে এটাই অলিখিত নিয়ম।” সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের একাংশকে নিয়মিত ‘ম্যানেজ’ করা হয়। এ কারণেই কি দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ ওঠার পরও কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যায় না?
প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের চোখের সামনেই কীভাবে চলে এই পারমিটবিহীন মদের ব্যবসা? অভিযানের খাতা কি শুধুই লোক দেখানো? নাকি আইনের রক্ষকরাই কোথাও আপস করছেন?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, পারমিট ছাড়া মদ বিক্রি গুরুতর অপরাধ যার শাস্তি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দুটোই। কিন্তু কক্সবাজারে সেই আইন যেন প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়। সাধারণ ব্যবসায়ী বা ছোটখাটো অপরাধে যেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান হয়, সেখানে প্রভাবশালী বারগুলোর বিরুদ্ধে রহস্যজনক নীরবতা জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, এভাবে অবাধ মদ বিক্রি চলতে থাকলে কক্সবাজার শুধু আইনহীনতার দৃষ্টান্তই হবে না তরুণ সমাজ, সামাজিক শৃঙ্খলা ও পর্যটন ভাবমূর্তিও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
সচেতন নাগরিকদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন। রেনেসাঁ বারসহ পারমিটবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখা। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। নইলে প্রশ্ন থেকেই যাবে কক্সবাজারে কি আইন সবার জন্য, নাকি কিছু বারের জন্য আইন অদৃশ্য?