বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক (বীর প্রতীক) আর নেই
বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক (বীর প্রতীক) আর নেই। তিনি বুধবার রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার আছরের নামাজের পর কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ছুরুতিয়া মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
এস এম নুরুল হক বীর প্রতীকের বাড়ি ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মুক্তারকুল গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জাহান আরা বেগম, পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানের সারগোদা বিমানঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১ জুন সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং ১১ জুন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
তিনি ১ নম্বর সেক্টরে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রণকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হলে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিমানবাহিনীতে কর্মরত থেকে ১৯৭৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
ঐতিহাসিক অপারেশনে সাহসী অংশগ্রহণ, ১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে ভারতের ডিমাপুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি যুদ্ধবিমান (অটার) চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিমানে ছিলেন এস এম নুরুল হকসহ তিনজন। লক্ষ্য ছিল পতেঙ্গার তেল শোধনাগার ধ্বংস করা, যা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র তেল শোধনাগার।
রাত প্রায় দুইটার দিকে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে রকেট, বোমা ও মেশিনগান দিয়ে সফল হামলা চালান। পাকিস্তানি বাহিনীর তীব্র গোলাগুলির মুখে সাগরপথ ধরে পালিয়ে গিয়ে পরে আসামের কোম্ভিগ্রাম বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করেন। এই অপারেশনটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহসী বিমান অভিযানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
দেশের জন্য জীবনবাজি রাখা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে কক্সবাজারসহ দেশবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।