একই পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইংয়ে প্রভাবশালী ও কুখ্যাত ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করেছে চীন। গত সেপ্টেম্বর আদালতের রায়ের পর এই সাজা কার্যকর করা হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চীন বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও মিং পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন। ২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের দুর্গম সীমান্ত শহর লাউককাইং কার্যত শাসন করে আসছিল মিং, বাউ, ওয়েই ও লিউ—এই চারটি প্রভাবশালী পরিবার। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুরুর দিকে আফিম ও মেথামফেটামিন উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও পরবর্তীতে তারা ক্যাসিনো ও অনলাইন প্রতারণার একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরোক্ষ সমর্থন ছিল বলে জানা যায়। পরিবারের একাধিক সদস্য জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নেন।
লাউককাইংয়ের স্ক্যাম সেন্টারগুলো ছিল এশিয়ার সবচেয়ে নৃশংস কেন্দ্রগুলোর একটি। বিশেষ করে মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ ছিল নির্যাতনের ভয়াবহ কেন্দ্র। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার চীনা নাগরিককে সেখানে আটক করে ‘পিগ-বাচারিং’সহ নানা ধরনের অনলাইন জালিয়াতিতে বাধ্য করা হতো। নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন ছিল সেখানে সাধারণ ঘটনা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পালানোর চেষ্টা করলে রক্ষীরা কয়েকজন চীনা নাগরিককে হত্যা করে, যা বেইজিংকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে নেয় এবং চার পরিবারের প্রধানদের আটক করে চীনের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং আটক হওয়ার পর আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে মিং পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেন, ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে একজনকে হত্যা করেছিলেন। এসব নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে চীন, যাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যৌক্তিকতা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায়।
মিং পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও অন্য পরিবারগুলোর বিচার এখনো চলমান। বাউ পরিবারের পাঁচ সদস্য বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন এবং ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকেও অনলাইন স্ক্যাম চক্রের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে চীন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বড় স্ক্যাম কেন্দ্রগুলো বন্ধ হলেও এই প্রতারণা ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
সূত্র: বিবিসি।