বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

‘জামায়াত ও আ.লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’- ভারতীয় গণমাধ্যমে মাহফুজ আলম

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনীতির মাঠে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ একে অপরের পরিপূরক শক্তি-মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠের মতো।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম বলেন, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে এবং জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ নিয়ে কোনো স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ভিশন নেই, যা নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, পুরনো কাঠামোর অংশীদারদের সঙ্গে নতুন রাজনীতি গড়া সম্ভব নয়। এতে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যার উত্তর দেওয়ার মতো অবস্থানে কেউ নেই।

দেশের ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতায় যে দলই আসুক না কেন-বিএনপি বা জামায়াত-সমাজের ভেতরের ক্ষত ও বিভাজন সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকতে পারবে না। শুধু কাগুজে সংস্কার নয়, ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন গণমাধ্যমকে আস্থা করে না। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে তাদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় আসতে হবে।

বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে ও তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে নতুন পথ তৈরি করা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে মাহফুজ আলম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত ১০ ডিসেম্বর তিনি সে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

ক্যাটাগরি