বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করা নব্য ফ্যাসিজম: সাদিক কায়েম

ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার ইশারায় ও কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পোস্টে তিনি লেখেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো ভোটারদের ঘরে মোবাইল রেখে আসতে বাধ্য করা। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অনুমোদিত থাকবে না। এর ফলে ভোটকেন্দ্র এলাকায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীর কাছেই কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রমাণ থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে এই ধরনের নব্য ফ্যাসিজম কারা জাতির ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন ডাকসু ভিপি।

তিনি আরও বলেন, কারা দেশের তরুণদের ভয় পায় এবং কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়, সেটি এখন স্পষ্ট। দেশের তরুণ ও যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়াজ তুলতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব নিতে হবে।

সাদিক কায়েম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, দেশের নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য বা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এই নির্দেশনা জারি করেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটগ্রহণের দিনে মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণে অভ্যস্ত অধিকাংশ সাংবাদিক সমস্যায় পড়বেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা এই প্রথম জারি করল নির্বাচন কমিশন।

ক্যাটাগরি