বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে শতভাগ প্রস্তুত র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি ও সেনাবাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী ও আনসার বাহিনী সমন্বিতভাবে নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর প্রত্যাশা, জনগণকে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই করা হবে।

ইতোমধ্যে আসনভিত্তিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রায় সোয়া দুই লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সবাইকে আগেই নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোন কেন্দ্রে কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন, প্রতি কেন্দ্রে কতজন পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও সেনাসদস্য থাকবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করেছে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে আলাদা স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এক হাজার ২০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছে, যারা মাঠে থেকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি শেষ করে জেলায় জেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে র‌্যাব সদস্যরাও নির্বাচনি মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

আনসার সদর দফতর জানায়, প্রায় ৫ লাখ আনসার সদস্য এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পেয়েছেন। ভোটগ্রহণের আগের দিনই তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকবেন আনসার সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে তারা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। অস্ত্রধারী ও অস্ত্রবিহীন—দুই ফরমেটেই দায়িত্ব পালন করবেন আনসার সদস্যরা।

সেনাসদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, “আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করেছি। এবার এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবারের বড় পার্থক্য হলো—সেনাবাহিনী এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবে, যা আগে ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আগে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতাম। এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্য রেখে বাকি সবাইকে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন।”

বিজিবি সদর দফতর জানায়, প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে মাঠে রয়েছে। তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেও কাজ করবে। তবে বিজিবির সব কার্যক্রম একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে। সশস্ত্র থাকলেও বিজিবি সদস্যরা নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করবেন।

র‌্যাব সদর দফতর জানায়, র‌্যাবের প্রায় ১২ হাজার সদস্য সারাদেশে ১৫টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে। প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে র‌্যাব।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—ভোট যেন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হয়। সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এবারের নির্বাচন হবে স্মরণকালের নির্বাচন, এটি ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন এবং নির্বাচন কমিশনও একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

সব মিলিয়ে প্রায় সাত লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সমন্বিত উপস্থিতিতে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: সারাবাংলা

ক্যাটাগরি