শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। একটি ভোট শুধু সরকার নির্বাচন করবে না, বরং এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠনের পথে এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে এই ভোট প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনগণের কণ্ঠ আর কখনো হারাতে দেবে না।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশ একটি ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। আর মাত্র একদিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা জাতির বহুদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ দেশ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জনগণের, বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না। জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে, যা রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার ফল। তবে নির্বাচনী সময়ে সংঘটিত সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর বেদনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাগরণ সাংবিধানিক রূপ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ কোন পথে এগোবে তা নির্ধারিত হবে— ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের পথে, নাকি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক বৃত্তে ফিরে যাবে। তিনি সব প্রার্থীকে ফলাফল মেনে নিয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

ভাষণের শেষাংশে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে পারেননি। এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি নতুন সূচনা। বিশেষ করে নারীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও সম্মুখসারিতে ছিলেন। তরুণদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি, আর এই ভোট তাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।

ক্যাটাগরি