শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

জীবিত থেকেও তালিকায় মৃত, ভাতা থেকে বঞ্চিত বৃদ্ধ আব্দুল মজিত

শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে দিব্যি চলাফেরা করলেও সরকারি তালিকায় ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে ৯০ বছর বয়সী আব্দুল মজিতকে। ফলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। দায়িত্বশীলদের এমন ভুলের মাসুল গুনছেন অসহায় এই বৃদ্ধ।

আব্দুল মজিত নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের বাসিন্দা। জীবনের শেষ সময়ে এসেও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সরকারি কাগজে ‘মৃত’ দেখানো হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তার একমাত্র সহায় বয়স্ক ভাতা।

এ ঘটনায় শুধু তার পরিবারই নয়, বিস্মিত এলাকাবাসীও। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিত মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার পরিচয়। তারা দ্রুত এই ভুল সংশোধন করে বৃদ্ধের প্রাপ্য ভাতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আল নোমান শান্ত, মাছুম ফকিরসহ অনেকে বলেন, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় এনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা প্রয়োজন।

আব্দুল মজিত জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎ করেই তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাকে ‘মৃত’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন,‘আগে ভাতার টাকা পেলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খেতাম। এখন দেড় বছর ধরে টাকা পাই না। বুড়া হইছি, ভালো কিছু খাইতে মন চাইলেও পারি না। যদি টাকা পাইতাম, তাহলে একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।’

তার ছেলে আবুল বাসার বলেন, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তার বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে জীবিত প্রমাণ করতে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অফিসে গেলেও এখনো কোনো সমাধান পাননি।

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে দেখেননি।

অন্যদিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আব্দুল মজিতকে মৃত দেখানো হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে মৃত দেখিয়ে একটি সনদও সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে তার ভাতা বন্ধ করে একই এলাকার আবুল কালাম নামে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন কার্যক্রম করা হয়। সেখানে মৃত ভাতাভোগীদের বাদ দিয়ে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ক্যাটাগরি