রামুতে আওয়ামী দোসর খোদেস্তা বেগমকে ঘিরে রহস্য!
বিএনপির আশ্রয়ে নিরাপদ অবস্থান? প্রশাসনের নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও আত্মগোপনের চিত্র স্পষ্ট হলেও কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, রামু উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম এখনো প্রকাশ্যে ও নিরাপদে অবস্থান করছেন তাও আবার বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, সরকার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বহু নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও খোদেস্তা বেগমের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর।
অভিযোগ রয়েছে, এই যাতায়াতের মূল উদ্দেশ্য তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নিরাপদ রাখা।
খোদেস্তা বেগম রামু উপজেলার মিটাছড়ি ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কাজে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরকার পতনের পর যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে, তখন খোদেস্তা বেগমের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না হওয়াকে স্থানীয়রা ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা সরাসরি দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে, অথচ খোদেস্তা বেগম প্রকাশ্যে থাকছেন। শোনা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে তাকে কেউ ছুঁতে পারছে না।”
আরেকজন সচেতন নাগরিক বলেন,
“আইনের চোখে সবাই সমান হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেই দায়মুক্তি মিলছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার পতনের পরপরই রামু এলাকায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলোর বড় একটি অংশ এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবের কারণে এসব অভিযোগ ‘ফাইলবন্দি’ হয়ে আছে।
এ বিষয়ে রামু থানা পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগছে।” এই বক্তব্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।

দলের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ সমর্থনযোগ্য নয়। যদি কেউ আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় তাকেই নিতে হবে।”
তবে খোদেস্তা বেগম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে নির্বাচিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার ও প্রশাসনের ওপর আস্থার সংকট বাড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, খোদেস্তা বেগমের ভূমিকা ও অভিযোগসমূহের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় রামুতে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।