বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামু

মুমূর্ষু প্রসূতি মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

মানবিকতায় উজ্জ্বল রামু থানা পুলিশ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় গভীর রাতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এএসআই জাহিদ। টহল ডিউটিরত অবস্থায় এক মুমূর্ষু প্রসূতি মা ও সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করেন তিনি ও তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা।

জানা গেছে, গত ১৭ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ দিবাগত রাতে রামু থানার রাত্রিকালীন মোবাইল-৫২ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন এএসআই জাহিদ। তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সিএনজি যোগে বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে টহল টিম রাজারকুল এলাকার সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছালে এক উদ্বিগ্ন ও বিচলিত নারী পুলিশ বহনকারী সিএনজিটিকে থামার সংকেত দেন।

পুলিশ সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই নারী জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের মেঝেতে তার মেয়ে সদ্য প্রসব করা নবজাতক সন্তানসহ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে এএসআই জাহিদ ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার কক্ষে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় প্রসূতি মা ও সদ্য ভূমিষ্ঠ ছেলে সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে তিনি দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় আশপাশে কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ বহনকারী সিএনজিতেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এএসআই জাহিদ নিজেই বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করে যানবাহনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি দেওয়ানপাড়া গ্রামের সিএনজি চালক শুক্কুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন এবং সিএনজিসহ ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন।

পরে মুমূর্ষু মা ও নবজাতককে দ্রুত রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। এসময় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও কিনে দেন এএসআই জাহিদ। হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় মা ও নবজাতক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, পুলিশের এমন মানবিক ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। গভীর রাতে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এএসআই জাহিদ যে সাহসিকতা ও সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

ক্যাটাগরি