দেড় লাখ ইয়াবার মামলার পলাতক আসামি ফারুক গ্রেপ্তার
অভিযানে কর্মকর্তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি যুবদল নেতার
কক্সবাজারের রামুতে আলোচিত ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দারিয়ার দিঘী মণ্ডলপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কোরবান আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি সেখানে ২০-২৫ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
রামু থানার ওসি এ কে ফজলুল হক ফারুকের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফারুক খুনিয়াপালংয়ের দারিয়ার দিঘী মণ্ডলপাড়া এলাকার হোসাইন আহমদের ছেলে। ফারুক ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতিতে স্বক্রীয় রয়েছেন বলেও জানা যায়।
যেভাবে মামলায় নাম আসে :
১৭ ফেব্রুয়ারি রামু-মরিচ্যা আরাকান সড়কে নাম্বারবিহীন একটি ডাম্পারে ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশ মো. হারুনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কৌশলে ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যায় ইয়াবাকারবারি ফারুক। তল্লাশির সময় গ্রেফতারকৃতের কাছে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১৫টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ হাজার করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ছিল বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফারুককে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।
মামলা সূত্রে ফারুকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এছাড়াও ফারুকের বিরুদ্ধে থানা আদালতে মাদক সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা যায়। সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত এবং মাদক ব্যবসায়ী বলে স্থানীয় সুত্রে প্রকাশ রয়েছে।
‘চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি :
ফারুককে গ্রেপ্তারের সময় অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় ফারুক নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের নেতা দাবি করে পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তার ভাই হারুনকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় রামু থানার সাবেক ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নালকে বদলি করানোর দাবি করে ‘আপনারও একই পরিণতি হবে’ এমন বক্তব্য দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হঠাৎ বিপুল সম্পদ উৎস কোথায়? :
স্থানীয়দের মধ্যে ফারুক ও তার পরিবারের কথিত সম্পদ বৃদ্ধিকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ফারুকের ভাই হারুন একসময় দিনমজুর হিসেবে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারের সম্পদ ও আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাদের আরও অভিযোগ, ফারুকের নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের হিমছড়ি-প্যাঁচার দ্বীপ এলাকাতেও সম্প্রতি কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি কেনার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তবে এসব সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত তথ্য এই প্রতিবেদনের হাতে নেই। ফলে স্থানীয়দের এসব দাবিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহারের অভিযোগ :
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ফারুক মাদক ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করতেন। তবে কারা ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি, তাদের সঙ্গে ফারুকের প্রকৃত সম্পর্ক কী কিংবা তারা কোনোভাবে মাদক কারবারে জড়িত কি না এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এ বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এখন তদন্তেই মিলবে অনেক প্রশ্নের উত্তর :
ফারুকের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ওই মামলায় তদন্তের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে মাদক পরিবহন, অর্থের উৎস, সম্পদ অর্জন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে পুলিশ কী তথ্য পায় সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।
বিশেষ করে বিপুল ইয়াবার চালানের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, চালানটির গন্তব্য কোথায় ছিল, পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না এবং কথিত বিপুল সম্পদের উৎস কী এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায়।