খুরুশকুল তেতৈয়া আলিম মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ সাইফুলকে মারধরের অভিযোগ এক স্কুল দপ্তরির বিরুদ্ধে
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়াকে কেন্দ্র করে হাফেজ সাইফুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি আহমদ উল্লাহ’র বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে গিয়ে সাইফুলের মেঝ ভাইকেও এসএস পাইপ দিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
গতকাল ৩১ আগষ্ট, সোমবার কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ডেইল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হাফেজ সাইফুল ইসলাম আসরের নামাজের পর বন্ধুদের সাথে বাড়ির সামনের স্কুল মাঠে খেলতে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তারা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে খুরুশকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচে আশ্রয় নেয়। তখন বিদ্যালয়ের দপ্তরি আহমদ উল্লাহ তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। সাইফুল বৃষ্টি থামলে চলে যাবে বলে জানালে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দপ্তরি তাকে লাথি, ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এসময় সাইফুল, তার মেঝ ভাই ও মা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত সাইফুল খুরুশকুল তেতৈয়া আলিম মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর ছাত্র বলেও জানান তারা।
তার ভাই মিজানুর রহমান বলেন, মারধরের পর সাইফুল সেখান থেকে চলে আসে। পরে মাগরিবের নামাজের পর আমাকে বিষয়টি জানায়, পরে অভিভাবক হিসেবে বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে দপ্তরির কাছে জানতে চাইলে। এ সময় দপ্তরি সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই দপ্তরিকে তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করা হলে তিনি অসম্মতি জানান এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সাইফুলের মেঝ ভাইকে এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করেন। আবদু ছবি নামের এক ব্যক্তি সাইফুলের মায়ের দিকে তেড়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে গায়ে হাত দেন। এ সময় দপ্তরির শ্বশুর নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি পরিবারের।
পরবর্তীতে এসএস পাইপটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় দপ্তরির মাথা পাশে থাকা একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দপ্তরি ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ধরনের সংঘাত চান না; বরং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগীর ভাই আরও বলেন, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার ছোট ভাইকে কেন মারধর করা হলো এবং পরে আমাকে কেন এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করা হলো-তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপবাদ ও হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানাচ্ছি।”